ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিন
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ সদস্যের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানীতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মূল আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এ ছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে। রাশিয়ার রিয়া নভোস্তি বার্তা সংস্থার প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, পুতিন নয়াদিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য এটি ২০১৯ সালের পর প্রথম ভারত সফর। বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের ছয় বছর পর দুই প্রতিবেশী বৈরী দেশের মধ্যে সতর্ক কূটনৈতিক বরফ গলার ক্ষেত্রে এটিকে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই এশীয় পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্ক আবার উষ্ণ হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে তাদের মধ্যে বিমান চলাচল, ভিসা প্রদান এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে এখনো গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। বিতর্কিত সীমান্ত, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই দেশের সম্পর্ককে এখনো জটিল করে রেখেছে।
এদিকে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লির সড়কগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাস্যোজ্জ্বল ছবি সংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। মধ্য দিল্লিতে যান চলাচলে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং দিল্লি পুলিশ নগরবাসীকে ধৈর্য ধারণ ও সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে।
পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য থাকা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান বড় অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই জোটের বিস্তার ঘটে এবং এতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরু করা যুদ্ধের বিষয়ে এই তিন দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হর্ষ ভি পন্থ বলেন, ‘উপসাগরীয় সংঘাত এবার ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের মূল বিভাজন রেখা হতে চলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর পর্যন্ত ব্রিকসের সম্প্রসারণকে যে অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছিল, আজ সেটাই ব্রিকসের জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা বলে মনে হচ্ছে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাসুদ পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম ভারত সফর, যা মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ব্রিকস আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের শিলান শাহ বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ এই সম্প্রসারিত জোটের সংহতির জন্য এক কঠোর পরীক্ষা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তারা কোনো যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মত হতে পারেননি।
ভারত একদিকে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের সঙ্গেই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সতর্ক ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যেও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং সবচেয়ে আলোচিত জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ।
পুতিন এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন। তবে তিনি চলতি মাসেই কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে চলতি মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করেন। সে সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধে ভারতের প্রতিশ্রুতির জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.