আপনি পড়ছেন

একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলন সার্বিয়ার আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। এই বিজয়ের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক শিবিরের আধিপত্য ভেঙে পড়েছে। রবিবার অনুষ্ঠিত এই আগাম নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে পরাজয় স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভুসিচ। এর ফলে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পরিষদ দ্বারা বাছাই করা প্রার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ বা শিক্ষার্থী তালিকা এখন পরবর্তী সরকার গঠনের পথে রয়েছে।

সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের বাজিমাত: ক্ষমতার মসনদে কে বসছেন
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত বিশাল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ

দুর্নীতি দমন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, শিল্পী, কৃষক ও অধিকারকর্মীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে এই আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা পুরো প্রচারণার পরিকল্পনা ও প্রার্থী বাছাই করলেও তাদের কেউ সরাসরি পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। বিশাল নির্বাচনী বিজয়ের পরও আন্দোলনের পক্ষ থেকে এখনও জানানো হয়নি পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন।

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নোভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনের একটি কংক্রিটের ছাউনি ধসে পড়ে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই মূলত বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি সংস্কার করা ওই স্টেশনের বিপর্যয়ের পর দুর্নীতির অভিযোগ, দুর্বল তদারকি এবং সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহ পর বেলগ্রেডে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।

ওই হামলার চার দিন পর নাটকীয় কলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। দ্রুতই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হন। কোনো একক নেতা নির্বাচনের বদলে সাধারণ সভা বা প্লেনামের মাধ্যমে উন্মুক্ত বিতর্ক ও ভোটাভুটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিত শিক্ষার্থীরা। রেলওয়ে স্টেশন সংস্কারের নথি প্রকাশ, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার, আটক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি ছিল তাদের প্রাথমিক কর্মসূচিতে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ক্যাম্পাসের সীমানা ছাড়িয়ে শিক্ষক, কৃষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাসের টানা বিক্ষোভের মুখে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুসেভিচ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে এপ্রিল মাসে দুরো মাকুত নতুন সরকার গঠন করলেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। ওই বছরের ১৫ মার্চ বেলগ্রেডে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ‘আর্কাইভ অব পাবলিক গ্যাদারিংস’-এর মতে, সেদিন পৌনে তিন লাখ থেকে সোয়া তিন লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। যদিও সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ৮৮ হাজার থেকে এক লাখ সাত হাজার দেখানো হয়।

আন্দোলনটি রাজপথের বাইরেও ব্যাপক জনসমর্থন পায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পরিচালিত সিআরটিএ-র এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির প্রায় ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা বিক্ষোভ ও অবরোধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে সরকারি জোটের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের দাবি তোলেন।

প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের পরিবর্তে আন্দোলনকারীরা একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভা, আলোচনা ও যৌথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হয়। ‘স্টুডেন্ট লিস্ট—স্টুডেন্টস উইন’ নামে নির্বাচনী তালিকায় বিভিন্ন পেশা ও অঞ্চলের ২৫০ জন প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে সচেতনভাবেই শিক্ষার্থীদের এই তালিকায় রাখা হয়নি। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন জোটের সাবেক সদস্য এবং পার্লামেন্টের বিরোধী দলের সাবেক কর্মকর্তাদেরও প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই তালিকায় স্থান পান সার্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মীরা।

দেশজুড়ে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় প্রচারণার ওপর নির্ভর করেছিল এই প্ল্যাটফর্ম। তারা সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা রাজনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানান। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে শিক্ষার্থী তালিকা ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ভুসিচের নেতৃত্বাধীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি জোট পেয়েছে ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। এই ফলাফলের ভিত্তিতে ২৫০ সদস্যের পার্লামেন্টে শিক্ষার্থী তালিকা একাই ১৩৯টি আসন পেতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য শিক্ষার্থী তালিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করেনি। তবে আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন দুজন—তালিকায় শীর্ষে থাকা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইলিজা স্রদানোভিচ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর দেজান সোসকিচ। নোভি সাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধ্যাপক স্রদানোভিচ ১৯৯৭ সাল থেকে ভোজভোডিনার কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ইনস্টিটিউটে কর্মরত। বিক্ষোভের অন্যতম সমর্থক এই চিকিৎসক সার্বিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সোচ্চার ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দেন এবং বিজয়ের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে উন্নত সম্পর্কের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক দেজান সোসকিচ ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক অব সার্বিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এমন কিছু আইন প্রণয়নের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার গভীর অভিজ্ঞতার কারণে ভবিষ্যৎ সরকারের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনায় তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রচার চলাকালে প্রেসিডেন্ট ভুসিচ দাবি করেছিলেন সোসকিচই শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী, যদিও আন্দোলনের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া তালিকার আরেক প্রার্থী রাদোমির সাইচিচ জানিয়েছেন, নির্বাচিত আইনপ্রণেতারাই বৈঠকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.