ইরান ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারের বিষয়ে ইরান ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় আয়োজিত ‘গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের’ (জিইসিএফ) অষ্টম সম্মেলনের ফাঁকে মঙ্গলবার এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি অংশ নেন।

বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে পুতিন সম্মেলনটিকে ‘বেশ সফল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনাগুলোও অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগের একটি কারণ। শুধু আমাদের জন্যই নয়, বিশেষ করে আমাদের জন্য বেশি, কারণ আমরা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করি।’
ভ্লাদিমির পুতিন আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী, আমাদের অনেক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা সেগুলো অর্জনে সচেষ্ট। আমরা আশা করি পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হবে।’ রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, তেহরানের সঙ্গে সব যৌথ প্রকল্পের অধীনে মস্কো নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টকে মস্কোয় সব সময় স্বাগত জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলার এবং দ্বিপাক্ষিক কার্যসূচি নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।’
জবাবে আতিথেয়তার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের যোগাযোগকে সবসময় অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় বিষয়েই আপনারা আমাদের সমর্থন দেন। আপনাদের এই সমর্থন ও সহায়তার জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও বিকশিত হওয়ার বিষয়ে পুতিনের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, অঞ্চলে আমেরিকার আগ্রাসী পদক্ষেপ একটি বহুমুখী বিশ্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছে, যা সবার জন্যই কল্যাণকর।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের অঞ্চলে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই আমরা সব আঞ্চলিক সংকট সমাধান করতে সক্ষম।’ তিনি যোগ করেন, ‘অঞ্চলে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভর করার কোনো প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে আমাদের অঞ্চলের কিছু দেশ দ্বিমত পোষণ করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি এমন নয়।’
এর আগে মঙ্গলবার দিনের শুরুতে পুতিন ও পেজেশকিয়ান উভয়েই অষ্টম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
পরবর্তীতে কাতারের আমিরের সঙ্গে আলোচনায় পুতিন উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও কাতার উভয়ই বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ শতাংশ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান পুতিন। তিনি জানান, সংঘাতের অবসান এবং ইরান সংশ্লিষ্ট সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধান চায় মস্কো। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে গৃহীত একটি চুক্তির কথা উল্লেখ করে পুতিন বলেন, ‘আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ স্মারকটি এখনো প্রাসঙ্গিক রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এই জটিল ও তীব্র সমস্যা সমাধানে সাধ্যমতো সবকিছু করতে আমরা প্রস্তুত।’
বৈঠকে শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি বাজারসহ পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে। সংকট নিরসনে রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং গাজার মানবিক বিপর্যয়সহ অন্যান্য আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান কাতারের আমির।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.