আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণকারী দলের আসন হারানো একপ্রকার অবধারিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমেছে ক্ষমতাসীনদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি মূলত ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পেনাল্টি’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের খেসারত, যার মাধ্যমে ব্যালটের শক্তিতে ভোটাররা প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতার ওপর একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয়ের ইতিহাস
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিল

মার্কিন প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি অর্থাৎ ৪৩৫টি আসন এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ চলে। ব্যালটে সরাসরি প্রেসিডেন্টের নাম না থাকলেও এই ভোট মূলত প্রশাসনের মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের ওপর জনগণের রায় হিসেবে বিবেচিত হয়। চলতি নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন তিনটি আসন এবং সিনেটের জন্য চারটি আসন। অন্যদিকে সিনেটে ৫০-৫০ ব্যবধানে আসন ভাগাভাগি হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের টাইব্রেকিং ভোটের সুযোগ থাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে রিপাবলিকানদের হাতে।

১৯৪৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১৮টিতেই প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতাসীন দলের আসন কমেছে। এসব নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল গড়ে প্রায় ২৬টি করে আসন হারিয়েছে। কেবল ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকান পার্টি এই ধারার বাইরে ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের দল সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা গড়ে ২৯টি আসন হারালেও রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির গড় ছিল ২৩টি আসন।

প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ২০১০ সালে। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর পর তার দল ৬৪টি আসন হারায় এবং রিপাবলিকানরা নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে ১৯৪৬ সালে হ্যারি এস ট্রুম্যানের সময় ৫৬টি এবং ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটনের সময় ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসন হারিয়েছিল, যেখানে প্রতিবারই দলটি কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে বড় বিপর্যয় ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারের মেয়াদে ৫০টি এবং ১৯৭৪ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের সময়ে ৪৮টি আসন হারানোর মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ৪২টি আসন খুইয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ১৯৪৬ সালের পর থেকে সাতটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে (১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২) প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ অন্য দলের হাতে চলে গেছে।

উচ্চকক্ষ সিনেটের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। ১৯৪৬ সালের পর থেকে ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৩টিতে ক্ষমতাসীনদের আসন সংখ্যা কমলেও কেবল ছয়টি নির্বাচনে (১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০৬ ও ২০১৪) তারা কক্ষটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের মতো প্রতি দুই বছর পর সিনেটের সব আসনে ভোট হয় না। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর হওয়ায় প্রতি চক্রে ১০০টি আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যে কারণে জাতীয় মেজাজের পাশাপাশি কোন রাজ্যগুলোতে ভোট হচ্ছে, তা ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। সিনেটে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন আইজেনহাওয়ার; ১৯৫৮ সালে তার দল ১৩টি আসন হারায়। এ ছাড়া ট্রুম্যানের ডেমোক্র্যাটরা ১৯৪৬ সালে ১২টি এবং ওবামার ডেমোক্র্যাটরা ২০১৪ সালে ৯টি আসন হারিয়েছিল, যার ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রিপাবলিকানদের হাতে।

কিছু নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষে বিপরীতমুখী ফলাফলও এসেছে। ১৯৮২ সালে রোনাল্ড রিগ্যানের রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ২৬টি আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়িয়েছিল। একইভাবে ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল এবং ২০২২ সালে জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ হারালেও সিনেটে একটি করে আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। এই ফলাফলগুলো প্রমাণ করে, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ পুরো কংগ্রেস জুড়ে সমানভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।

আসন হারানো আর কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো একই বিষয় নয়। ১৯৬৬ সালে লিন্ডন জনসনের ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ৪৭টি আসন হারালেও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ ছিল। আবার বিশ বছর পর রিগ্যানের রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র চারটি আসন হারালেও সিনেটে আট আসন খুইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মূলত সরকারি নীতি নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বা ভেটোর জন্য কোনো বিল পাঠানোর আগে তা উভয় কক্ষে পাস হতে হয়। যেকোনো এক কক্ষে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে তারা প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা আটকে দিতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো কিংবা প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের প্রস্তাব তোলা সম্ভব হয়। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ বাতিল করার চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.