মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম আব্দুল আল-সায়েদ কে?
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ে দেশটির সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আব্দুল আল-সায়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হলেন ৪২ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ। একই সঙ্গে এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক স্থাপন করল।

নির্বাচনী প্রচারণায় সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ চালু, আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে ধনী দাতাদের প্রভাব হ্রাস এবং শ্রমজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিতের ওপর জোর দেন আল-সায়েদ। তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। ইসরায়েল ইস্যুতে তার এমন অনমনীয় বক্তব্য পুরো প্রচার পর্বেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
আল-সায়েদের এই অবস্থানের কারণে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। গত আগস্টে দলীয় প্রাইমারিতে আল-সায়েদের কাছে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স সাধারণ নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি আল-সায়েদের প্রচারণার ভাষা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সরাসরি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন। স্টিভেন্সের এই পদক্ষেপে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও তা আল-সায়েদের জয় আটকাতে পারেনি। সিনেট বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ও মিশিগানের রাশিদা তাইবের মতো শীর্ষ প্রগতিশীল নেতারা আল-সায়েদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।
নির্বাচনী লড়াই চলাকালে আল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় নিয়েও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা তার ধর্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ করেন। এসব আক্রমণ প্রতিহত করে আল-সায়েদ বলেন, ‘মার্কিন নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে প্রেসিডেন্ট আমার নাম ও ধর্মকে ব্যবহার করছেন।’
মিশরে জন্ম নেওয়া অভিবাসী মা-বাবার সন্তান আব্দুল আল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানের রচেস্টার হিলসে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সফলভাবে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর রোডস স্কলার হিসেবে ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবনে আল-সায়েদ ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে চরম আর্থিক সংকটের মুখে থাকা নগরীর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে প্রার্থী হয়ে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানব ও প্রবীণ সেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ২০০৬ সালে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে কিথ এলিসন এবং ২০১৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে রাশিদা তাইব ও ইলহান ওমর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে এই প্রথম কোনো মুসলিম ব্যক্তি ইতিহাস গড়ে নির্বাচিত হলেন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.