‘নির্বাচন হবে, এটা ঠেকানোর মতো শক্তি কারও নেই’
- Details
- by নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রেী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নির্বাচন হবে, এটা ঠেকানোর মতো শক্তি কারও নেই।’ আজ রোববার, ২ সেপ্টেম্বর নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নত্তর পর্বে তিনি এই মন্তব্য করেন ।
১ সেপ্টম্বর, শনিবার সংসদের বাইরে থাকা দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে দলটির নেতারা দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি জানিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না।
বিএনপির এই দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আমি গ্রেপ্তার করিনি; রাজনৈতিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে গ্রেপ্তার হয়েছে এতিমের টাকা চুরি করে। তারা আন্দোলন করুক। ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে খুব ভাল কথা। আবার বলছে নির্বাচন করবে না। কে নির্বাচন করবে-না করবে, সেটা সেই দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কী করার আছে? তাদের দল যদি মনে করে নির্বাচন করবে না, তাহলে করবে না। যদি মনে করে করবে, করবে। এটা বিএনপির সিদ্ধান্ত, তারা কী করবে, না করবে।’
২০১৪ সালে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু পরবর্তী ঘটনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি গেলাম, আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দিল না। সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওদের (বিএনপি) সঙ্গে আর বসব না, আর কোনো আলোচনা হবে না, প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলেন, ক্ষমতাই থাকি, না থাকি, আমার কিচ্ছু আসে যায় না।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকা নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন। খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে আটক করার ইচ্ছা থাকলে আরো আগেই যখন তার দল হরতাল কর্মসূচি দিয়েছিল তখনই আটক করতে পারতেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যদি বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করতাম, করতে চাইতাম, তাহলে কি ১০ বছর লাগত? আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তার মামলাটি আমরা দিইনি। তাকে মুক্ত করতে হলে বিএনপির এত নামী-দামি আইনজীবী, ব্যরিস্টার, তারা কেন পারল না প্রমাণ করতে যে, খালেদা জিয়া নির্দোষ। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাচ্ছে। তাদের তো কোর্টের মাধ্যমে আনতে হবে। আর যদি দ্রুত চায় তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবে।’
তাড়াহুড়া করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চাপিয়ে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতিতে অনেক দেশেই নির্বাচন হয়। তবে তাড়াহুড়া করে এই ইভিএমের ব্যবহার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হোক। আমাদের ঘোষণা ছিল, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ইভিএম তারই অংশ। আমরা সবসময় নতুন প্রযুক্তি এনেছি। এখন সবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড আছে, সবার জন্য বায়োমেট্রিক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এখন আমরা বাজার করি অনলাইনে, গরু পর্যন্ত অনলাইনে কিনে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম দিয়ে ভোট নেওয়া হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্ট এসেছে। ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করেছি, ট্রান্সপারেন্স ব্যালট বাক্সের ব্যবহারও আমরা শুরু করেছি। জনগণ ভোট দিলে দেবে, না দিলে না দেবে। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়া নেই। আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি, এটাই আমাদের চাওয়া-পাওয়া।’
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারলে ভোটের ক্ষেত্রে আস্থা রাখতে পারবেন না কেন?’ প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় ইভিএমের ব্যবহার শুরু হোক। আর এটাই তো শেষ কথা না। ভারত একটা সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে যে কেউ মোবাইলে ভোট দিতে পারবে।’
বিএনপির ইভিএম বাতিল দাবি করার বিষয়ে বলেন, ‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকেও তিন মাসের মধ্যে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কারচুপি করে ক্ষমতায় না এলে খালেদা জিয়াকে পদত্যাগ করতে হতো না। সেই কারচুপি করা বিএনপি ইভিএম চায় না। কারণ তাদের কারচুপির টেকনিক আছে, যা আমরা এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি। দুইটা সিল মেরে আরেকটা ব্যালট সঙ্গে এনে ফেললে তারা টাকা পায়। তারা ভোট কিনে নেয়। ইভিএম হলে তারা আর ওই কারচুপি করতে পারবে না। তাই তারা ইভিএম চায় না।’
১০০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আওতায় একশ বছরের পরিকল্পনা আমরা করেছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাই, ব-দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য অভিঘাত থেকে বাঁচানোর জন্যই এই পরিকল্পনা। আগামী মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) আমাদের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের (এনইসি) বৈঠক আছে। সেখানেও এটা নিয়ে আলোচনা করা হবে।’
‘২০১০ সাল থেকে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত করণীয় অনেক দূর এগিয়েছে। ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমাদের কী করণীয়, সেটা প্রণয়নে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। জাতির পিতা বলে গেছেন, বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের ইচ্ছা। আর কিছু চাওয়ার নেই।’ -যোগ করেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাদের অপপ্রচারের ঘটনাকে জঘন্য আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশেও এই ঘটনা ঘটেছে। (তারা) বিএনপি জামায়াতের কাছে শিখল কি না সেটাই প্রশ্ন। ২০১৩-১৫ বিএনপি অপপ্রচার চালিয়েছিল। মিয়ানমার জঘন্য কাজ করেছে। নিজেরা নিজেদের সম্মান নষ্ট করেছে।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.