আপনি পড়ছেন

আবেগ নিয়ন্ত্রণ, ইল্যুশন তৈরি অথবা শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট রুমের পুরো পরিবেশটাই বদলে দিতে রঙ একটি শক্তিশালী মাধ্যম। একটি সুস্থ ও সুন্দর বাড়ি তৈরির জন্য কালার সাইকোলজি বা রঙ মনোবিদ্যার ব্যবহার এখন মোটামুটি প্রচলিত। মনোবিজ্ঞানী, বাস্তু পরামর্শদাতা, ফেং শুই বিশেষজ্ঞদের মতে আপনার বাড়িতে ব্যবহার করা রঙ আপনার মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আর তাই রঙ-কে আচরণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

home colors

যে রঙের স্কিম ভাল কাজ করে

যুক্তরাষ্ট্রের একজন বাস্তু এবং ফেং শুই পেশাদার পরামর্শক বলেন ২০০৪ সালে শক্তির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। তাই ওই বছর বা এরপর বাড়ি বানিয়েছেন কিংবা সংস্কার কাজ করেছেন তাদের একটি নির্দিষ্ট থিম অনুসরণ করা উচিত। এমনকি ঘরের মেঝেও যদি পরিবর্তন করে থাকেন তাহলেও।

তিনি পরামর্শ দেন, আপনি পুরো বাড়িতে হালকা রঙের থিম ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনার অফহোয়াইট, গোলাপী বা পীচের শেড ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা উচিত। গোল্ড বা সিলভারের মত মেটালিক রঙও বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আরও একটি পরামর্শ হল, কেউ যদি অধিকাংশ সময় বিরক্ত বা উত্তেজিত থাকেন তারা হোয়াইট এবং গোল্ডের শেডস বেছে নিতে পারেন মনের প্রশান্তির জন্য।

রঙ আপনাকে শান্ত করতে পারে

একজন মনোচিকিৎসক জানান, বিষন্নতায় ভোগছেন এমন রোগীরা ঘরের রঙ বদলে ভাল ফল পেয়েছেন। তিনি জানান হালকা রঙ মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং রোগীকে সম্পূর্ণরূপে শান্ত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপনার যা এড়াবার প্রয়োজন

গাঢ় গোলাপী, গাঢ় বেগুনি, গাঢ় পীচ মত ডার্ক ভারী রঙ, গাঢ় সবুজ বাড়িতে অগ্নি উপাদান উদ্রেককারী, তাই এসব রঙ এড়িয়ে চলুন। আপনার দেয়াল শুধুমাত্র ব্রাউন অথবা বাদামি রঙেও রাঙাবেন না। এই রঙ এড়িয়ে চলা উচিত।

কিছু পরামর্শ
  • আপনি যদি চান বাড়ি বড় দেখাক তাহলে উজ্জ্বল রঙ দিয়ে ইল্যুশন তৈরি করতে পারেন যা সত্যিই কাজে দেয়। এর জন্য হলুদ এবং ডিমের খোসার মত উজ্জ্বল এবং স্পন্দনশীল রঙ ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণ সাদা রঙ এড়িয়ে যান।
  • লাল এর সাথে আপনার রান্নাঘরে ক্ষুধা তৈরি করুন। লাল অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ক্ষুধা প্রবৃত্তির সৃষ্টি করে। তাই অনেক রেস্টুরেন্ট তাদের ডাইনিং রুম লাল নকশার নির্বাচন করে থাকেন। তাই আপনার রান্নাঘর লাল ক্যাবিনেট ও বেইজ দেয়ালের মিশ্রণে করতে পারেন।
  • আপনি যদি বাড়ি বিক্রি বা রঙ করানোর কথা ভেবে থাকেন বিশেষ করে শীতের সময়, তাহলে গাঢ় যেমন বিভিন্ন ধরণের লাল, কমলা এবং হলুদের মত রঙগুলো বাছুন। যা আপনার ঘরকে বাইরে থেকে দেখাবে স্বাগতপূর্ণ আর ভেতর থেকে উষ্ণ।
  • গরমে নীল বা নীলের বিভিন্ন শেড বা নীল-সাদার মিশ্রণে বাড়িতে শীতল ভাব আনতে পারেন। নীল রঙ বাড়িকে শীতল, সজীব এবং পরিষ্কার দেখাবে।
  • আপনার বেডরুম এবং বাথরুমে শান্ত এবং প্রশান্ত ভাব আনতে শীতল-হালকা রঙ যেমন- নীল, সবুজ বা ল্যাভেন্ডারের বিভিন্ন শেড বেছে নিতে পারেন।
  • আপনি কি কোন বিশেষ রঙ পড়তে ভালবাসেন? তাহলে বাথরুমের জন্য সেই রঙটিই বেছে নিন। বাথরুমের আয়নায় নিজেকে যখন দেখবেন তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি প্রিয় রঙ সত্যিই সাহায্য করবে।
  • শৈশবে যে রঙগুলো বাড়িতে দেখেছেন বা যে সব রঙের মাঝে আপনি বেড়ে উঠেছেন সেখান থেকে পরিচিত কোন রঙ বেছে নিতে পারেন। সে রঙ আপনাকে শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে। বিশেষ করে রান্নাঘরে এটি করতে পারেন। 
  • অসুস্থ বা হাঁপানি রোগীদের রুমের জন্য কমলার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। কমলা রঙ ফুসফুসের কার্যাদি এবং শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সেইসাথে কোনো ওয়ার্কআউট রুমেও ভাল কাজে দেবে। ফুসফুসের সমস্যা বা অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন এমন ব্যক্তির রুমের জন্য হালকা কমলা রঙ খুব সহায়ক হতে পারে।
  • আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে লাল রঙ থেকে দূরে থাকুন। লাল রঙ রক্তচাপের সাথে সম্পর্কিত। বেডরুমে বা লিভিং রূমে যদি গাঢ় রঙ ব্যবহার করতেই চান তাহলে শীতল রঙগুলোর গাঢ় শেড বাছুন।
  • 'সবুজ রঙ' আপনার হোম অফিসের জন্য আদর্শ। অফিসে 'সবুজ রঙ' আপনাকে কাজে মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। যত দ্রুত কাজ শেষ করবেন পরিবারের সাথে তত বেশী সময় কাটাতে পারবেন। সবুজ এই মুহূর্তে হোম ডিজাইনে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত রঙ।
  • কিছু ঘরবাড়ি আছে যাতে প্রেসার কুকার বিস্ফোরণ, বাল্ব ভাঙ্গা বা বিস্ফোরিত হওয়ার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। এইসব বাড়িতে অগ্নি উপাদান শান্ত করার জন্য বাদামি এবং গাঢ় নীলের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত। আর আপনি যদি খিটখিটে ও ক্রোধান্বিত বোধ করেন এবং রুমের দেয়াল যদি খুব উজ্জ্বল রঙের হয়ে থাকে তাহলে উজ্জ্বল রঙ বদলে হোয়াইট শেডস বেছে নিন।

 

আপনি আরও পড়তে পারেন

নিজেই বানান আকর্ষণীয় মোমবাতি

গুছিয়ে রাখুন পড়ার টেবিল

বিছানার চাদর থাকুক যত্নে

 

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর