আপনি পড়ছেন

ঈদ সামনে রেখে এখন হয়ত ফ্রিজ কিনবেন অনেকে। কুরবানির মাংস রাখতে ঝামেলায় পড়তে হয় প্রায়ই। এই সময় খুবই প্রয়োজনীয় একটি গৃহস্থালী জিনিস এটি। অনেকে আবার পুরনো ফ্রিজই সারিয়ে নিচ্ছেন। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে এটি পরিষ্কারের তালিকায় থাকেই। কুরবানি ঈদের প্রয়োজনীয় এই অনুসঙ্গ নিয়ে মোটামুটি একটি গাইডলাইন দেয়া হল। যেমন কেনার সময়ে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন, এর যত্ন-আত্তি, পরিষ্কার করা ইত্যাদি। 

fridge

ফ্রিজ কেনার সময় মাথায় রাখবেন আমাদের দেশে বেশি প্রচলিত টপ ফ্রিজার ধরনের ফ্রিজ মানে ওপরে ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজ ও নিচে রেফ্রিজারেটর। আপনার বাড়িতে মাছ-মাংস বেশি খাওয়া হলে এবং পুরনো মডেলে আপত্তি না থাকলে এটি কেনা ভালো হবে। আর ফলমূল, সবজি খেতে ভালবাসলে বটম ফ্রিজার মানে ডিপ ফ্রিজ নিচে থাকে এমন ধরনের ফ্রিজ কিনুন। আধুনিক ফ্রিজ চাইলে ফ্রেঞ্চ ডোর বা সাইড-বাই-সাইড ধরনের ফ্রিজ মানে যেগুলোতে দুই পাল্লার দরজা থাকে সেগুলো কিনতে পারেন। তবে জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে যায়, এমন ফ্রিজ কিনুন। রেফ্রিজারেটরের তাকগুলো সাধারণত দুই ধরনের হয়। একটা হয় সাধারণ ট্রে এর মতো, কাঁচ বা প্লাস্টিকের স্বাচ্ছ বা সাদা। আরেকটা হয় তারের র‍্যাক। ফ্রিজ কিনে ঘরের কোথায় রাখবেন, আগেই জায়গাটা ঠিক করে নিন। জায়গা বুঝে ফ্রিজের মাপ ঠিক করুন। পরিবার বড় হলে বড়, টেকসই ফ্রিজ কেনা উচিত।

ফ্রিজের যত্ন-আত্তি

  • ফ্রিজ ঝকঝকে ও সুন্দর রাখতে দরকার বিশেষ যত্ন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ফ্রিজের ভেতরটা পরিষ্কার করতে হবে, এর জন্য সপ্তাহের শেষ দিনটি বেছে নিতে পারেন।
  • মাসে একবার সাবান পানি দিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। ফ্রিজ পরিষ্কার করতে ক্লোরিন ব্লিচ ও খসখসে কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়। রান্নাঘরে ফ্রিজ রাখলে ফ্রিজের উপরের অংশ পাতলা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন।
  • বেশি পুরানো খাবার ফ্রিজে রাখলে বাজে গন্ধ হয়ে যেতে পারে তাই পুরনো খাবার রাখবেন না। গরম অবস্থায় নয়, খাবার ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রাখুন। সবজি প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে মুখটা ভালোভাবে আটকে দিন, সবজির আদ্রতা ও পুষ্টি গুন বজায় থাকবে। গন্ধও হবে না।
  • মাসে একবার ফ্রিজের সিল পরীক্ষা করুন। ছয় মাস পর পর ফ্রিজের পাওয়ার অফ করে নরম ঝাড়ন দিয়ে ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কয়েল পরিষ্কার করুন।
  • ফ্রিজের ওপর ভারি জিনিস রাখবেন না। ফ্রিজ পরিষ্কারের পর তাপমাত্রার সুইচ অন করে দিতে ভুলবেন না। সব সেটিং পরীক্ষা করুন ঠিক আছে কিনা।
  • লোডশেডিঙয়ের পর ফ্রিজ ঠিক মত চলছে কিনা পরীক্ষা করুন। ফ্রিজ কখনো জোরে বন্ধ করবেন না।
  • ফ্রিজ দেয়ালের সাথে একেবারে লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। চুলার কাছে বা গরম স্থানে ফ্রিজ রাখবেন না। ফ্রিজ রাখা স্থানটি গরম হয়ে গেলে মাঝে মাঝে ফ্যান ছেড়ে রাখুন।

ফ্রিজ পরিষ্কারের পদ্ধতি

  • প্রথমে পাওয়ার অফ করে নিন। ফ্রিজের ভেতরের সব খাবার আর ট্রে বের করে নিন।
  • খাওয়ার অযোগ্য হয়ে গেছে, এমন খাবারগুলো আলাদা করে দ্রুত সম্ভব ডাস্টবিনে ফেলে দিন।
  • হালকা গরম পানিতে গুঁড়ো সাবান গুলে ফ্রিজের তাকগুলো সাবধানে খুলে নিয়ে আধা ঘণ্টা ডুবিয়ে রেখে পরিষ্কার করুন। পরে শুকনো করে মুছে জায়গা মতো ফিট করে দিন।
  • ফ্রিজের ভেতরটাও ঘষে ঘষে ভাল করে পরিষ্কার করতে হবে। লিকুইড সাবান ও স্পঞ্জ দিয়ে ভেতরটা ভালো করে মুছে নিন। ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে হালকা গরম পানির সাথে বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করুন।
  • একটি পরিষ্কার নরম কাপড়, ব্রাশ বা স্পঞ্জ সাবান মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে ফ্রিজটি ভাল ভাবে পরিষ্কার করুন। ফ্রিজের বাইরের অংশ পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। কয়েল পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই যেন ফ্রিজটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। রেফ্রিজারেটরের নিচের অতিরিক্ত ট্রেতে পানি জমে। শেটি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
  • ফ্রিজের দরজা খুলে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে ভাপসা গন্ধ দূর হবে। সংরক্ষণের উপযোগী করতে আবার ফ্রিজ চালু করে দিন। ব্যবহারযোগ্য খাবারগুলো জায়গা মতো আবার গুছিয়ে রাখুন।
  • সবশেষে ফ্রিজে দুর্গন্ধ যাতে না হয়, একটি টুকরো লেবু রেখে দিতে পারেন।

টিপস- ফ্রিজ পরিষ্কার করার সময় ঠাণ্ডা কাঁচ জাতীয় জিনিস গরম পানিতে পরিষ্কার করবেন না। দুধ, জ্যাম, ডিম,পাউরুটির মত খাবার নির্দিষ্ট তাকে রাখুন। ফল ও সবজি এক সাথে রাখবেন না। ফ্রিজের চারপাশের রাবারের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করুন, না হলে রাবার ফেটে যেতে পারে।

 

আপনি আরও পড়তে পারেন

ঈদের আগে বাড়ি-ঘরের যত্ন-আত্তি

যে কোনো দাগ তুলতে লেবুর খোসা

ঘর পরিষ্কারের সামগ্রী কতোটুকু নিরাপদ

মরচে পড়া তুলে ফেলুন ঝটপট উপায়ে

ঘরেই বানান এয়ার ফ্রেশনার

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর