advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে

ভারতের গঙ্গা নদীতে নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এমন ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবিস্তার হচ্ছে, যা অত্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক-রোধী। গবেষণায় বলা হচ্ছে, সেই সময় আর বেশি দূরে নেই, যেদিন কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজে লাগবে না। ফলে অকেজো হয়ে যাবে ২০ থেকে ২৫টি গ্রুপের অন্তত ২৫০ থেকে ২৭৫টি অ্যান্টিবায়োটিক।

ganga river india 1

গবেষণার বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এই অবস্থা চলতে থাকলে নানা রকমের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। বাড়বে নতুন নতুন সংক্রামক রোগের সম্ভাবনাও।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন বলছে, শুধু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রবেশের পরই গঙ্গার শরীরে ঢুকছে প্রতিদিন ২০০ কোটি ৭০ লাখ লিটারের বেশি বর্জ্য-নিকাশি পানি, যা কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

খবরে বলা হয়েছে, গঙ্গায় গজিয়ে উঠেছে কয়েক শ প্রজাতির ভয়ঙ্কর ব্যাকটেরিয়া। যারা সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধকেই অকেজো করে দিতে পারে অনায়াসে। বাড়তি উদ্বেগের কারণ হলো- সব রকমের অ্যান্টিবায়োটিক-রোধী সেই ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতিগুলো দ্রুত বংশ বিস্তার করছে। তারা গঙ্গার প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ছে আরও দ্রুত হারে। মিশছে বাতাসে, আশপাশের পরিবেশে।

ভারতের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) সর্বশেষ একটি গবেষণায় এসব বিষয় জানা গেছে। গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘এনভায়রনমেন্টাল পলিউশান’-এ।
৭ সদস্যের গবেষক দলের প্রধান ছিলেন বিএইচইউয়ের সেন্টার অফ অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন বোটানির মলিকিউলার ইকোলজি ল্যাবরেটরির অধ্যাপক সুরেশ কুমার দুবে।

সুরেশ জানিয়েছেন, গঙ্গার ৫টি ঘাটের পানি ও পলি মাটি পরীক্ষা করে ওই ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মিলেছে। সেই ঘাটগুলি হলো- অশি, ভাদায়িনি, হরিশচন্দ্র, ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ ও রাজঘাট।

গবেষকরা দেখেছেন, গঙ্গার পানিতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক-রোধী নানা রকমের ব্যাকটেরিয়া। যাদের শরীরে রয়েছে ভয়ংকর কয়েকটি জিন। ওই জিনগুলিই গঙ্গার পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে খুব দ্রুত হারে বদলে দিচ্ছে। তাদের করে তুলছে সব রকমের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী। তাদের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে লাফিয়ে লাফিয়ে( যেমন- ১ থেকে ২ হচ্ছে, তার পর, ২ থেকে ৪ এবং সঙ্গে সঙ্গে ৪ থেকে সংখ্যায় বেড়ে ৮ হচ্ছে ও ৮ থেকে ১৬)।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়ার এই দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য দায়ী ডিঅক্সি-রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা ডিএনএ। এমন কাণ্ড ঘটাচ্ছে তিন ধরনের ডিএনএ। ‘ট্রান্সপোসন’, ‘প্লাজমিড’ আর ‘ক্রোমোজোমাল’। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে ট্রান্সপোসনের।

ওই ডিএনএ-রাই এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থেকে খুব দ্রুত অন্যান্য প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার শরীরে ঢুকে পড়ে তাদেরও করে তুলছে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী।

মূল গবেষক সুরেশ আনন্দবাজারকে বলেছেন, ‘আমরা সাধারণত যেসব অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করি, মানুষ ও পশুদের শরীরে সেগুলি ঢুকে কাজ করার পর তাদের কিছু অংশ দেহেই থেকে যায়। সেই অবশিষ্ট অংশই ঘর-গৃহস্থালীর বর্জ্য, আবর্জনা, ওষুধ তৈরির কারখানা, হাসপাতাল, পোলট্রি শিল্পের বর্জ্য থেকে নালা, নর্দমা, নোংরা, মজে যাওয়া খালের মাধ্যমে এসে মিশছে গঙ্গার পানিতে।

গঙ্গার পানি পরিশোধনের কাজ প্রত্যাশিত গতি ও গুণমান বজায় রাখতে পারলে এমন একদিন আসবে যখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজে লাগবে না।

sheikh mujib 2020