advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বুধবার কলকাতার পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি একশো রুপি বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। বলা হচ্ছে, ভারতে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ নেই। তবে এটা সিন্ডিকেটের কারসাজিও হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন বিশ্লেষকরা।

peyaj

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতীতে কখনও পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়েনি। এর জেরে কলকাতার মধ্যবিত্তদের সঙ্গে মাথায় হাত পড়েছে খুচরা ব্যবসায়ীদেরও । অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খুচরো ব্যবসায়ীরা বুঝে উঠতে পারছেন না, ঠিক কত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা উচিত।

বুধবার কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রী পাসোয়ান এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আমাদের কিছু করার নেই। চাহিদা বেশি। জোগান কম। তাই পেঁয়াজের এই আকাশছোঁয়া দাম। মন্ত্রীর যুক্তি, অকাল বৃষ্টি ও চলতি বছর উৎপাদন ২৬ শতাংশ কম হওয়াতেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

পাসোয়ান আরো বলেন, রাজ্যগুলোর কোথায় কত পেঁয়াজ মজুদ আছে, তা রাজ্য সরকাররেই দেখার দায়িত্ব। পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে এ ব্যাপারে চিঠিও লেখা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কোন রাজ্যে কোথায় কত পেঁয়াজ বেআইনি মজুদ আছে, তার পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের দাম কত, তার রিপোর্ট সপ্তাহে সপ্তাহে কেন্দ্রকে পাঠানো হোক।’

ভারতের মিডিয়ারা সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শেষ ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ করা ছিল। কিন্তু সেগুলো সবই সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বাজারে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আপাতত সরকারের কোষাগার প্রায় শূন্য। পেঁয়াজ এই মুহূর্তে এতটাই কম যে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে আধার কার্ড জমা দিলে তবেই মিলছে সরকারি দামে পেঁয়াজ।

এদিকে এই ইস্যুতে ভিতরে ভিতরে আমজনতার আক্রোশ ও বিরোধীদের চাপ সামলাতে চাপে তুরস্ক থেকে ১১ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। যদিও সেগুলো জানুয়ারি মাসের আগে ভারতে এসে পৌঁছাবে না।

তুরস্কের পাশাপাশি মিশর থেকে ৬ হাজার ৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। হল্যান্ড থেকেও পেঁয়াজ আনা হবে বলে ঠিক করেছে সরকার।