advertisement
আপনি দেখছেন

আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় এড়াতে জি২০ নেতারা একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। মঙ্গলবার এ ভার্চুয়াল সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১ বিলিয়ন ইউরো বা ১.২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্মেলনে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

g 20 summit afghan issueআফগানিস্তানে মানবিক সংকট মোকাবেলায় সহায়তা দিতে সম্মত বিশ্ব নেতারা

জাপান টাইমস জানিয়েছে, ভার্চুয়াল সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ২০ বিশ্ব নেতা অংশ নেন। তারা আফগানিস্তানে উদ্ভূত অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের উপর আলোচনা করেন। এর আগে কাতারে প্রথমবারের মতো তালেবানের সাথে আলোচনায় বসে মার্কিন ও ইইউ প্রতিনিধিদল।

ইইউ আফগানিস্তানে সহায়তা প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমে দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। আলোচনায় পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নেওয়া আফগান শরণার্থীদের জরুরি মানবিক সহায়তার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে ইইউ। গত আগস্টে আফগানিস্তাকে তালেবান দখলে নেওয়ার পর থেকে জি-২০ বৈঠকের জন্য জোর দিয়ে আসছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। তার বক্তব্য ছিল, আফগানিস্তানের সমস্যা সমাধান নিয়ে বিতর্ক অবশ্যই পশ্চিমা মিত্রদের সাধারণ ক্লাবের বাইরে এসে করতে হবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্মেলনে অংশ নেননি। তাদের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে কথা বলেন। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের দ্রাঘি বলেন, আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। বিতর্কের পরিবর্তে এখন এই জরুরি অবস্থায় আফগান জনগণের প্রতি জি-২০ ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে।

তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রায় সবই বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিদেশে থাকা দেশটির সম্পদও স্থগিত করা হয়। এখন দেশটিতে খাবারের দাম এবং বেকারত্ব বাড়ছে। আসন্ন শীত মৌসুমে সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কতাও রয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছে। বিদ্যুৎ, অর্থ, খাবার কিছুই নেই সেখানে। এ সময় আন্তর্জাতিক বিশ্ব বসে থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক সহায়তা পেতে হলে তালেবান সরকারকে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

দ্রাঘির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ব্রিফিং নোট অনুসারে, জি২০ নেতারা আফগানিস্তানে মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রতি গুরুত্বারোপের উপর জোর দিয়েছেন। তারা নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেছেন। কারণ তালেবান নিজেও আইএসের হুমকির মুখে। আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে আইএস-কের সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জাতীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে জি২০ নেতাদের বলেন, তালেবান এখনও প্রত্যাশিত প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করেনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা আফগান পুনর্গঠনে ২০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এই সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও উপস্থিত ছিলেন, যিনি বলেছিলেন যে আফগানিস্তান ভঙ্গুর অবস্থায় রযেছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে।