advertisement
আপনি পড়ছেন

লেবাননে গত রোববার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল পেতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ভোটে এককভাবে কোনো দল সরকার গঠন করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে একটি ঝুলন্ত সংসদের পথে এগোচ্ছে দেশটি। সমাধান পেতে নেতারা দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার পথে হাঁটতে হবে। আর এমনটি হলে সরকার গঠনে কয়েকমাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। দ্য নিউ আরব।

lebanon vote 2022লেবাননে ভোট

আগামী অক্টোবরে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে জয়ী দলই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে থাকে। সেক্ষেত্রে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট এক সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন দল একক ব্যক্তিত্বে একমত নাও হতে পারে।

কারা আসছে ক্ষমতায়

লেবাননের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কয়েক ডজন রাজনৈতিক দলের বেশিরভাগই সাম্প্রদায়িক এবং নানা দল-উপদলে বিভক্ত। এসব রাজনৈতিক দল বাইরের শক্তি দ্বারাও প্রভাবিত। প্রধান সম্প্রদায় হল সুন্নি মুসলিম, শিয়া মুসলিম, ম্যারোনাইট খ্রিস্টান, অর্থোডক্স খ্রিস্টান এবং ড্রুজ। কনভেনশনের মাধ্যমে তাদের সংসদে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকারী দুটি প্রধান বিষয় রয়েছে। প্রথমটি হল হিজবুল্লাহ সংক্রান্ত। যে রাজনৈতিক দলের সামরিক শাখা রয়েছে। এ কারণে রাজনীতিতে দলটির অসম ক্ষমতা দেখা যায়। মূলত একটি রাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র হিসেবে কার্যকর থাকে হিজবুল্লাহ। দলটিকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে আরেকটি বিষয় প্রভাবশালীদের ভূমিকা। তা হল রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি জনগণের মোহভঙ্গ। দল মত নির্বিশেষে লেবানিজরা এবার অভিজাত রাজনীতিকদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জনগণ তাদের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত শ্রেণি হিসেবে দেখে, যারা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া করেছে। জনগণ চায় না তারাই আবার ক্ষমতায় ফিরুক।

স্বতন্ত্র দল ও প্রার্থীরা জনগণের এই ক্ষোভের সদ্ব্যবহার করে সংসদে নতুন মুখ নিয়ে জয়ের আশা করছে।

লেবাননের রাজনৈতিক দলগুলো মূলত দুটি ব্লকে বিভক্ত। তা হল- একটি ব্লক হিজবুল্লাহকে সমর্থন করে, অন্যটি করে না।

ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, হিজবুল্লাহপন্থী ব্লক ইরান দ্বারা প্রভাবিত এবং তারা সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারকে সমর্থন করে। এই দলটির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তবে এই নির্বাচনে তারা অনেক সমর্থন হারাবে বলে মনে হচ্ছে। এই ব্লকে রয়েছে, আমাল, বাথ পার্টি, সিরিয়ান সোশ্যাল ন্যাশনালিস্ট পার্টি ও লেবানিজ ডেমোক্রেটিক পার্টি।

হিজবুল্লাহ বিরোধী ব্লক হিজবুল্লাহর প্রভাবের বিরোধিতা করে। তারা সিরিয়ার শাসনের বিরুদ্ধে এবং পশ্চিমা ও সৌদিপন্থী। এই ব্লকে রয়েছে ফিউচার মুভমেন্ট পার্টি। দলটি হিজবুল্লাহর বিরোধিতাকারী বৃহত্তম সুন্নি দল। দলটির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পর দলটি নির্বাচন বর্জন করেছিল। এছাড়া রয়েছে লেবানিজ ফোর্সেস, প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক দল, ন্যাশনাল লিবারেল পার্টি বা আহরার।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শুধু একটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ। তারা ক্ষমতাসীন সংস্থা এবং উপরে তালিকাভুক্ত সকল রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে।