advertisement
আপনি পড়ছেন

উপস্থিত দর্শকরা প্রথমে ভেবেছিলেন, বিশেষ কোনো দৃশ্যের মঞ্চায়ন চলছে। সেই ভুল ভেঙে দর্শকরা যখন বুঝল এটা কোনো বিশেষ দৃশ্য নয়, হামলা; ততক্ষণে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ওপর ১০-১৫টি আঘাত করে ফেলেছে হামলাকারী। পরে সবাই মিলে হামলাকারীকে ধরে ফেলে এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বুকারজয়ী লেখককে। খবর রয়টার্স, আলজাজিরা।

salman rushdie and the satanic versesসালমান রুশদি ও দ্য স্যাটানিক ভার্সেস

গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে শতকা ইনস্টিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা দিতে উঠেছিলেন আলোচিত-সমালোচিত লেখক সালমান রুশদি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মঞ্চে কারও সঙ্গে পরিচয় করানো হচ্ছিল লেখককে। সেই সময় সবাইকে চমকে দিয়ে রুশদির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। উপস্থিত দর্শকরা হতভম্ভ থাকতে থাকতেই হামলাকারী রুশদিকে মাথায়-পিঠেসহ ১০-১৫টি কোপ দিয়ে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাত্র ২০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে যায়। পরে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন মঞ্চে থাকা লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে। আর রুশদিতে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, রুশদির ঘাড়ে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

salman rushdie attacked on lecture stage in new yorkহামলার পর সালমান রুশদি

শতকা ইনস্টিটিউশনে উপস্থিত হওয়া র‌্যাবাই চার্লস স্যাভেনর নামে এক দর্শক বলেন, প্রথমে আমি ভাবলাম, কোনও স্ট্যান্ট চলছে হয়তো। কিন্তু পরে যা দেখলাম, তা ভাবা যায় না। ক্যাথলিন জোন্স নামে আরেক দর্শক বলেন, হামলাকারী ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। কয়েক মুহূর্ত পর আমাদের ভুল ভেঙেছিল।

স্টেসি শ্লোসার নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আক্রমণকারীকে সংযত করার আগে রুশদিকে ছয় থেকে আটবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।

নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের মেজর ইউজিন স্ট্যানিসজেউস্কি শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, রুশদি বেঁচে আছেন এবং স্থানীয় হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া হচ্ছে।

রুশদি তার বুকার পুরস্কার বিজয়ী ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। এটি লেখা হয়েছিল ১৯৮১ সালে। কিন্তু তার নাম বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়েছিল ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার পর। বইটির জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সমালোচনার মুখে পড়েন। ইরানের সাবেক ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি রুশদির মৃত্যুর আহ্বান জানিয়ে একটি আদেশ জারি করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, যে কেউ রুশদিকে হত্যা করবে তাকে ৩ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর