ওপেনএআই-এর এআই প্রশিক্ষণ: নথিতে মিলল ‘বিস্ময়কর চুরির’ তথ্য
- Details
- by বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণে লাখ লাখ সংবাদ প্রতিবেদন ও কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহারের কারণে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অংশীদার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের কর্মীরা। এমনকি তাদের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে বিষয়টিকে ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শ্রম চুরি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন আদালতের সিলগালা করা কিছু নথি প্রকাশের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত হওয়া এসব নথিতে দেখা যায়, মাইক্রোসফটের ডিরেক্টর অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স ব্রেন্ট হেচট ওপেনএআই-এর এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াকে ‘নজিরবিহীন মাত্রার এক বিস্ময়কর চুরি’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে এটি এমন একটি ‘ক্ষতিকর চক্র’ তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর গুণগত মান নষ্ট করে দেবে।
হেচট আরও সতর্ক করেন যে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য প্রকাশকদের কনটেন্ট শনাক্ত করার চেষ্টার সময় ওপেনএআই হয়তো ‘দুর্ঘটনাবশত গোপনীয়তা ধামাচাপা’ দেওয়ার মতো কাজে জড়িয়ে পড়েছিল।
তবে মাইক্রোসফটের মুখপাত্র অ্যালেক্স হাওরেক জানান, ব্রেন্ট হেচটের অভ্যন্তরীণ মেমোগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে না।
২০২৩ সালের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ শিগগিরই মনে করবে যে বৃহৎ মডেলগুলো যেভাবে তাদের কাজ গিলে ফেলছে, তা এক নজিরবিহীন মাত্রার বিস্ময়কর চুরি।’
প্রকাশকদের জন্য ‘অস্তিত্বের সংকট’
ওপেনএআই-এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে চ্যাটজিপিটি পাঠকদের প্রথাগত সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে।
চ্যাটজিপিটি তৈরির দলের প্রধান নিক টারলি ২০২৩ সালের জুনে এক মেমোতে লেখেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকাশকদের জন্য একটি ‘অস্তিত্বের সংকট’। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির আরেকটি মেমোতে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্যগুলো ‘যত বেশি উন্নত হবে, তত বেশি তা বিকল্প হিসেবে স্থান দখল করবে।’
একইভাবে আদালতের একটি নথিতে ওপেনএআই-এর এক প্রকৌশলী স্বীকার করেন, ‘আমরা যত স্পষ্টভাবে লিংকগুলো দেখাই না কেন, ব্যবহারকারীরা কখনোই সেগুলোতে ক্লিক করবেন না।’
২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে ওপেনএআই বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশকের সঙ্গে লাইসেন্স চুক্তি করেছে। তবে জেনারেটিভ এআই সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলোর ট্রাফিক কমিয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেছে।
আদালতের নথি থেকে আরও দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক টাইমসের পে-ওয়াল বা সাবস্ক্রিপশন সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য একজন কর্মী যখন ‘একটি হ্যাক’ তৈরির কথা উল্লেখ করেছিলেন, তখন ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান তাতে ‘আহ দারুণ’ লিখে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
এদিকে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেন, পে-ওয়াল থাকা কনটেন্টের অবশ্যই ‘লাইসেন্স নেওয়া উচিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, পে-ওয়ালযুক্ত উপাদান দিয়ে ওপেনএআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য জানা থাকলে তিনি সেগুলোকে পুনরায় প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করতেন।
কপিরাইট বিরোধ
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরির অভিযোগে ২০২৩ সালের শেষের দিকে ওপেনএআই এবং মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। পরবর্তীতে আরও ১১টি প্রকাশক প্রতিষ্ঠান এই মামলায় যোগ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ সিডনি এইচ স্টাইন বর্তমানে মামলার সারসংক্ষেপ নিষ্পত্তির আবেদনগুলো বিবেচনা করছেন এবং এর অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে আদালতের নথিগুলো উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
প্রকাশকদের মূল অভিযোগ, কোনো ধরনের অনুমতি বা অর্থ পরিশোধ ছাড়াই এআই সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দিতে তাদের লাখ লাখ নিবন্ধ ব্যবহার করে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফট।
তবে প্রতিষ্ঠান দুটি দাবি করছে, তাদের এই কার্যক্রম ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের নীতি দ্বারা সুরক্ষিত। তাদের যুক্তি, এআই প্রযুক্তি কনটেন্ট কেবল হুবহু নকল বা প্রতিস্থাপন করে না, বরং মূল কনটেন্টকে রূপান্তর করে নতুন সৃষ্টিতে পরিণত করে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.