আপনি পড়ছেন

স্পেনে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটির দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় উরদা শহরের কাছে হওয়া এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরে এটি দেশটিতে দ্বিতীয় বড় ধরনের দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনা।

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘স্পেনের মতো শক্তিশালী দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থার একটি দেশে এক বছরে এ ধরনের দুটি বড় দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি এই রেল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর সমাধান খোঁজার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘যাতে এ ধরনের ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।’ এর আগে জানুয়ারি মাসে আদামুজ শহরের কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেটির প্রাথমিক তদন্তে রেললাইনে ফাটলের প্রমাণ পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক রেলওয়ে ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের দিক থেকে চীনের পর স্পেন বিশ্বে দ্বিতীয় এবং ইউরোপে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এদিকে কাস্তিল-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ শুক্রবার জানান, নিহতদের শনাক্তকরণ কাজ চলমান থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৭০টি অভিযোগ পেয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১০ জনের মধ্যে ৩৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার সন্তোষজনক উন্নতি হচ্ছে।

মাদ্রিদ-সেভিল লাইনে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ইরিও ট্রেনের পেছনে রেনফে সংস্থার দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কা লাগার ঘটনায় ত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, স্বয়ংক্রিয় সংকেত ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কয়েকটি ট্রেনের চলাচল থেমে গেলে মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীরা দায়িত্ব নেন। স্পেনে এ বছর একই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ১৬০ বার ঘটেছে উল্লেখ করে পুয়েন্তে জানান, এই সংখ্যাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাভাবিক মানদণ্ডের ভেতরেই রয়েছে। তবে পরিবহনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামনে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মী নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন করে রেনফে ট্রেনটিকে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেন।

পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একই ব্লক সেকশনে দুটি ট্রেন থাকে, তবে পেছনের ট্রেনের কোনোভাবেই চলা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, এই পরিস্থিতিতে প্রথম ট্রেনটি সরলে পেছনের ট্রেনটিকে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।’ দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করে জানিয়েছিল যে তারা পুনরায় চলতে পারছে না। প্রাথমিক তদন্তের ধারণা অনুযায়ী, দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটিকে আঘাত করার সময় রেনফে ট্রেনটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ কিলোমিটার।

তদন্তে এখনও চূড়ান্ত দায় নির্ধারিত হয়নি। পরিবহনমন্ত্রী ওই সিদ্ধান্তকে ‘ব্যাখ্যাহীন’ বললেও রেলকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন যে এটি কোনো বিস্তৃত কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন কি না। স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-র বরাতে ইউজিটি ইউনিয়নের ট্রেনচালক ভিসেন্তে আলমেনার জানান, ট্রেনের বিলম্ব ঠেকাতে কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য কর্মীদের ওপর তীব্র চাপ থাকে। অন্যদিকে আদিফ-এ ইউজিটির নিরাপত্তা প্রতিনিধি আন্তোনিও তোবাল কেবল মানবিক ভুলের ওপর দায় না চাপিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি কাজের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি তোলেন।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা স্পেনের দ্রুতগতির রেলের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণে তুলনামূলক কম ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। একই সঙ্গে মাদ্রিদ-সেভিল লাইনের পুরোনো স্বয়ংক্রিয় সংকেত ব্যবস্থা বদলে নতুন ইউরোপীয় রেল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্পেনের সাম্প্রতিক রেল দুর্ঘটনাগুলো বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। ১৯৬৪ সালে জাপানের শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে সংঘর্ষ বা লাইনচ্যুতির কারণে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হয়নি। চীনে নথিবদ্ধ দুটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাই-স্পিড নেটওয়ার্কের অধিকারী ফ্রান্সে টিজিভি ট্রেনে তিনটি দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন মারা যান পরীক্ষামূলক চালনার সময়। বিপরীতে স্পেনে চলতি বছরেই দুটি দুর্ঘটনায় অন্তত ১১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর বাইরে ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কম্পোসতেলায় আরেকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন মারা গিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার পদত্যাগের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.