আপনি পড়ছেন

ঘর যদি মনের মত না হয় তবে সে ঘরে বসতি নয়। তাই ঘরকে মনের মত করতে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। ঘরে আলাদা স্নিগ্ধতা আনতে ঘরের কোণে একটি ছোট সুন্দর প্লান্ট রাখা যেতে পারে। ঘরে রাখলে যেসব গাছের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হয় না মূলত এই গাছগুলো 'ইনডোর প্লান্ট' হিসেবে পরিচিত।

indoor plant

বাড়িতে গাছ রেখে শুধু সৌন্দর্য্য বাড়ালেই কি হবে? এই গাছগুলোকে সজীব ও সুন্দর রাখা যায় কীভাবে সেদিকেও তো খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ যত্ন না নিলে আপনার শখের 'ইনডোর প্লান্ট' অল্প কিছু দিনেই মরে যাবে আর ঘর হবে অপরিষ্কার।

চলুন জেনে নেই কীভাবে গাছের যত্ন নেবেন।

  • গাছ খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তাই গাছের জায়গা বদল করুন কিছুদিন পর পর। আর অবশ্যই এয়ারকুলারের খুব কাছাকাছি গাছ রাখবেন না।
  • গাছ বেশি বড় হয়ে গেলে ঘর অন্ধকার লাগবে তাই বাড়তি ডালপালা ছেঁটে গাছকে মাঝারি সাইজের রাখুন।
  • গাছগুলোতে দুই দিন পর পর পানি দিন। প্রতিদিন পানি দিলে গাছ পচে যেতে পারে। পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখুন যেন বাড়তি পানি গড়িয়ে না পড়ে। এতে আপনার ঘর অপরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই একদিন পর পর অল্প করে পানি দিন। এক্ষেত্রে ওয়াটার স্প্রে দিয়ে গাছে পানি দেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
  • এসব গাছে সাধারণত পোকা হয়ে থাকে তাই গাছে সপ্তাহে একবার পোকামাকড়ের ওষুধ দিন।
  • অনেক সময় গাছের পাতায় সাদা ছোপ-ছোপ দেখা যায়। এটা এক ধরনের ফাঙ্গাস ইনফেকশন। এজন্য অল্প সাবানের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন। দেখবেন পাতা পরিষ্কার হয়ে গেছে।
  • সপ্তাহে অন্তত একদিন সব গাছ রোদে রাখুন। কড়া রোদে রাখবেন না। সকালের হালকা রোদে গাছ কিছুক্ষণ বাইরে রাখার চেষ্টা করুন।
  • গাছের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য নরম কাপড়ে পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • মাসে একবার নিমপাতা গরম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন ভিজিয়ে রাখা পানি ছেকে নিয়ে গাছের ওপর ঢেলে দিন। এতে ইনফেকশন কম হবে।
  • আমরা অনেকেই শখ করে ডেকোরেটিভ পট ব্যবহার করে থাকি গাছের জন্য। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যখনই দেখবেন শিকড় ড্রেনেজ হোলের কাছে পৌঁছে গেছে তখনই নতুন পটে বা টবে গাছ সরিয়ে রাখুন।
  • গাছের অক্সিজেন প্রয়োজন আছে, তাই বাতাস চলাচলের জন্য যেন জায়গা থাকে সেরকম ব্যবস্থা রাখুন।
  • কিছুদিন পর পর গাছের টব বদলাতে হয়, তখন খেয়াল রাখবেন শিকড় যেন ভেঙে না যায়। 
  • আর কিছুদিন পর পর টবের মাটি ওলট-পালট করে দিন। এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।

মনে রাখবেন গাছকে ভালবাসলেই কেবল এমন যত্ন নেওয়া সম্ভব।

 

আপনি আরও পড়তে পারেন

ঘরের রঙে প্রভাবিত হবে আপনার মন

নিজেই বানান আকর্ষণীয় মোমবাতি

পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে রেহাই