advertisement
আপনি পড়ছেন

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় জনগণের ওপর ব্যাপকহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই দ্রুত ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যালেনা দোহান গতকাল বুধবার তেহরানে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।

alena douhanতেহরানে সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেনা দোহান

এ মাসের গোড়ার দিকে ইরান সফরে আসেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যালেনা দোহান। ১২ দিনের লম্বা সফরে তিনি ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো খতিয়ে দেখেন। সফরের শেষ পর্যায়ে গতকাল বুধবার নিজের অনুসন্ধান প্রতিবেদন তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ আহ্বান জানান।

বিশ্বের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরানকে বাগে আনতে না পেরে পশ্চিমা দেশগুলো গত শতাব্দীর শেষ থেকে ইরানের ওপর লাগাতার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানকে চাপে রাখার নীতি গ্রহণ করে।

iran sanctionইরানের ওপর নানা খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর থেকে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু হয়। বিভিন্ন অজুহাতে দেশটির প্রায় সব খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এতে দেশটির সরকারের চেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশ বা সংস্থাগুলো সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি।

এ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ইরানের সকল খাতের ওপর থেকে বিশেষ করে খাদ্য, পানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর থেকে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানান।

অ্যালেনা দোহান বলেন, আমি নিষেধাজ্ঞা প্রদানকারী রাষ্ট্রগুলোকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ এসব একতরফা নিষেধাজ্ঞা ইরানের জীবনের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করছে। মানবাধিকার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

কোনো ভালো উদ্দেশ্যও এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনকে বৈধতা দেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আটকে রাখা সম্পদগুলোকে মুক্ত করে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বেলারুশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিনিধি আরো বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ১২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছে। তিনি এসব অর্থ ছেড়ে দিতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি একতরফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন না করতে বিশ্বের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।