advertisement
আপনি পড়ছেন

ন্যাটোতে যোগদান ইস্যুতে সম্প্রতি যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা কাটাতে আঙ্কারায় বৈঠকে বসেছিল সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও তুরস্ক। এতে তুরস্ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগগুলোর নিষ্পত্তি না হলে দেশদুটির ন্যাটোতে অংশগ্রহণ ইস্যুতে কোনো ধরনের অগ্রগতি হবে না।

ankara summitন্যাটোতে যোগদান ইস্যুতে আঙ্কারায় বৈঠক

আঙ্কারায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন এসব কথা বলেন। বৈঠকে তুরস্কের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইব্রাহিম কালিন এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদাত ওনাল। অন্যদিকে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের দলের নেতৃত্ব দেন যথাক্রমে সুইডিশ স্টেট সেক্রেটারি ফর ফরেন এফেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অস্কার স্টেনস্ট্রম এবং ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী স্টেট সেক্রেটারি জুক্কা সালোভারা।

বৈঠকে তুরস্ক জানায়, পিকেকে, ওয়াইপিজি ও পিওয়াইডি সব একই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখা। বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত পিকেকে নারী, শিশুসহ অন্তত ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। অন্যদিকে পিকেকে সিরিয়ান শাখা হচ্ছে ওয়াইপিজি ও পিওয়াইডি। প্রমাণ তুলে ধরে বৈঠকে তুরস্ক দাবি করে, সংগঠনটি যুদ্ধাপরাধ করেছে। তাই কোনোভাবেই এদেরকে বাঁচানোর জন্য প্রতিবেদন গোপন করা উচিত নয়।

turkey envoyইব্রাহিম কালিন

ইব্রাহিম কালিন বলেন, আমরা তাদেরকে বলেছি, তুরস্কের নিরাপত্তার বিষয়টি যদি পুরোপুরি সমাধান না করা হয়, তাহলে ন্যাটোর সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়াটি অগ্রসর হবে না। সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের প্রতিনিধি দলকে পরিষ্কারভাবে আমাদের বার্তা জানিয়ে দিয়েছি। তারা তাদের নেতাদের সাথে আমাদের দাবি নিয়ে আলোচনা করে আমাদের তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সংবাদ সম্মেলনে কালিন বলেন, তুরস্ক ১৯৯৯ সালের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের নীতি এবং জোটের সদস্যপদ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত পদ্ধতির সঠিক বাস্তবায়ন আশা করে। আর সে কারণে ন্যাটো সদস্যদের নিরাপত্তা উদ্বেগ একটি ন্যায্য পদ্ধতিতে সমাধান করা উচিত। এ সময় তিনি ন্যাটো মিত্রদের একে অপরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।

ইউক্রেনের রাশিয়ার হামলার প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করে। এর আগে ইউক্রেন ন্যাটো যোগ দিতে চাইলে রাশিয়া তাদের সতর্ক করে। কিন্তু ইউক্রেন সে সর্তকতায় ভ্রুক্ষেপ না করলে হামলা করে বসে রাশিয়া।

রাশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিতে চাইলে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। তবে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক কঠোরভাবে দেশ দুটির ন্যাটোতে সংযুক্তির বিরোধিতা করে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে তারা এ বিরোধিতা করে।

ন্যাটোর নিয়মানুযায়ী কোনো সদস্য দেশের আপত্তি থাকলে নতুন কোনো দেশ এ সংস্থায় যুক্ত হতে পারবে না। আর সে কারণেই রাশিয়ার হুমকির চেয়ে তুরস্কের বিরোধিতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে দেশ দুটির। এ অবস্থায় তুরস্ক জানিয়েছে, তাদের উদ্বেগের বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান না হলে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।