কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন
- Details
- by বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ, অত্যাধুনিক এআই মডেল, ডেটা সেন্টার এবং মেধা বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই পরাশক্তি একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরিকল্পিত বৈঠকের আগে রবিবার নিউইয়র্কে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের কাছে এআই সংশ্লিষ্ট জরুরি ঘটনার তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থার একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
সাংবাদিকদের বেসেন্ট জানান, জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন এআই সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে নতুন একটি নোটিফিকেশন ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করেছেন। তবে সামগ্রিক এআই শিল্পে দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও শক্তির ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
উন্নত এআই প্রযুক্তির জন্য বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন হওয়ায় সেমিকন্ডাক্টর চিপ এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে। এনভিডিয়া ও এএমডির মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এআই চিপের নকশায় শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং টিএসএমসি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপ উৎপাদন করছে। এছাড়া চিপ নকশার সফটওয়্যার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে উন্নত প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকারের ওপর প্রভাব বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
২০২২ সাল থেকে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ উন্নত প্রসেসর, হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি ও চিপ তৈরির যন্ত্রাংশ রপ্তানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। এর জবাবে চীন অভ্যন্তরীণ বিকল্প প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ দ্রুত বাড়িয়েছে। হুয়াওয়ের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে এআই প্রসেসর তৈরি করছে, যদিও তারা স্বীকার করেছে যে এখনও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য থাকলেও চীনা নির্মাতারা সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এআই ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে সেরা এআই মডেলের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সেরা মার্কিন মডেলটি শীর্ষ চীনা মডেলের চেয়ে মাত্র ২.৭ শতাংশ এগিয়ে ছিল।
স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ইপক এআই-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে চীনা মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় গড়ে সাত মাস পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে এই প্রতিযোগিতা শুধু সেরা মডেল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; খরচ কমানো, কাজের দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিকে বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনের লড়াই চলছে।
এআই মডেল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো এবং বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বর্তমানে এআই কম্পিউটিং ও ডেটা সেন্টার পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও চীন দ্রুত তাদের বিদ্যুৎ ও শিল্প অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিশ্বের ডেটা সেন্টারের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৪৫ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এবং চীনে ছিল ২৫ শতাংশ।
চূড়ান্ত পর্যায়ে এআই প্রযুক্তির বিকাশ গবেষক ও প্রকৌশলীদের মেধার ওপর নির্ভরশীল। শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আধুনিক গবেষণাগারের কারণে এখনো সবচেয়ে বেশি এআই বিশেষজ্ঞের আবাসস্থল যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাইরের দেশ থেকে নতুন গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ আকর্ষণের ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতা আগের চেয়ে কমেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে প্রযুক্তিবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.