যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নারী ও সংখ্যালঘুদের ঐতিহাসিক জয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নারী, বর্ণগত সংখ্যালঘু ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের একাধিক ঐতিহাসিক জয় হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষকে পুঁজি করে ডেমোক্রেটিক পার্টি দেশজুড়ে বড় সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। খবর রয়টার্সের

গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নির্বাচনেও জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।
টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচিত হয়ে প্রথম লাতিনা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন জিনা হিনোজোসা। মিশিগান থেকে আবদুল এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচিত হয়ে প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ডেব হাল্যান্ড।
জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে কোনো মার্কিন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম লাতিনো গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন জেভিয়ার বেসেরা। আর নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে ক্রিস পাপাস প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন।
জর্জিয়ার সাবেক গভর্নর প্রার্থী স্টেসি অ্যাব্রামস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। এখন ডেমোক্র্যাটদের সাহসের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে হবে।’
নির্বাচন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ, শুল্কনীতি, অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দেশের সামগ্রিক গতিপথ নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ।
বিশ্লেষকদের মতে, গভীরভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ডেমোক্র্যাটদের অপ্রত্যাশিত সাফল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলটি শুধু নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীর সমর্থন ফিরে পায়নি, কিছু রিপাবলিকান ভোটারকেও আকৃষ্ট করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো ভোটারদের সমর্থন দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ বাকারি সেলার্স বলেন, ‘দেশের হিস্পানিক, কৃষ্ণাঙ্গ ও তরুণ ভোটারদের সমর্থনকে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা যদি তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, তাহলে তাঁরা আবারও ডানপন্থীদের দিকে চলে যেতে পারেন।’
ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন গিয়ার বলেন, রিপাবলিকান-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে দিতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে এটি রিপাবলিকান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভোটারদের বৃহত্তর অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মিলওয়াকিভিত্তিক নাগরিক সম্পৃক্ততা সংগঠন ‘সোলস টু দ্য পোলস’-এর নির্বাহী পরিচালক গ্রেগ লুইস বলেন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের মতো অর্থনৈতিক উদ্বেগ জাতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সীমা ছাড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে।
উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলিকে ভোট দিয়েছেন লুইস। ক্রাউলি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। লুইস বলেন, পরিবারের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে হতাশা ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষের পকেটে হাত দিলে সমস্যা তৈরি হয়।’
টেক্সাসে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জিনা হিনোজোসা নির্বাচিত হওয়ায় গভর্নরের পদে ৩১ বছরের রিপাবলিকান আধিপত্যের অবসান হয়েছে। একই অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প সহজেই জয় পেয়েছিলেন টেক্সাসে। ফলে এবারের ফলাফলকে রাতের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া টেক্সাসের রেলপথ কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জন রোজেনথাল। ‘জিউইশ হেরাল্ড-ভয়েস’-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি অঙ্গরাজ্যটির নির্বাহী পর্যায়ের কোনো পদে নির্বাচিত প্রথম ইহুদি প্রার্থী।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেলেই রাজনৈতিক প্রভাব, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত হয় না।
নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইন প্রণয়ন, কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির কর্মসূচি নির্ধারণ, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দলের নেতৃত্বে কতটা প্রভাব রাখতে পারবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, তাঁদের গড়ে তোলা রাজনৈতিক জোট এবং নিজ নিজ দলের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.